দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় তরুণদের উদ্ভাবনী উদ্যোগকে স্বীকৃতি দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। পরিবেশ বিষয়ক প্রকল্প প্রস্তাব প্রতিযোগিতায় ৮১টি আবেদনের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেছে যুব পরিবেশ সংগঠন আর্থস অ্যান্টসের একটি তরুণ দল।
বুধবার পরিবেশ অধিদপ্তরের নতুন ভবনের তৃতীয় তলার সম্মেলন কক্ষে ‘বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা ২০২৬’-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিজয়ী দলকে ৩০ হাজার টাকা প্রাইজমানি ও সনদ দেওয়া হয়। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আওয়াল মিন্টু এমপি বিজয়ী দলের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আর্থস অ্যান্টসের বিজয়ী দলের সদস্যরা হলেন আকিব আহমেদ তালুকদার, মো. মিরাজুল ইসলাম, রাফি আহাম্মেদ ফিদা ও মো. শাহনূর মৃদুল। অনুষ্ঠানে সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাকালীন উপদেষ্টা অধ্যাপক মো. জামাল উদ্দিন রুনুও উপস্থিত ছিলেন।
পুরস্কার গ্রহণের পাশাপাশি বিজয়ী প্রকল্পটি বাস্তবায়ন ও পরবর্তী কার্যক্রম নিয়েও সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছে আর্থস অ্যান্টস। সংগঠনটির দাবি, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের বিষয়ে পরিবেশমন্ত্রী ও মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ইতিবাচক আশ্বাস দিয়েছেন। ফলে প্রতিযোগিতায় বিজয়ী প্রকল্প প্রস্তাবটি এখন বাস্তবায়নের সম্ভাব্য পর্যায়ে পৌঁছেছে।
এবারের বিশ্ব পরিবেশ দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন’। এর ভাবানুবাদ করা হয়েছে ‘জলবায়ু পরিবর্তন: আজকের পদক্ষেপ, আগামীর নিরাপত্তা’। এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পরিবেশ অধিদপ্তর শিশু-কিশোর চিত্রাঙ্কন, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, প্রকল্প প্রস্তাব প্রতিযোগিতা, পরিবেশ মেলা ও সেমিনারসহ বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্প প্রস্তাব প্রতিযোগিতায় ৮১টি আবেদন জমা পড়ে। যাচাই-বাছাই শেষে তিনটি প্রকল্পকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।
সমাপনী অনুষ্ঠানে পরিবেশমন্ত্রী পরিবেশ সুরক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির সমন্বয়কে টেকসই উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বাংলাদেশের জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা ও জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদানের মতো নীতিগত কাঠামোর কথাও তুলে ধরেন তিনি।
আর্থস অ্যান্টসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ৮১টি প্রস্তাবের মধ্যে প্রথম হওয়া তাদের জন্য শুধু পুরস্কার নয়; বরং তরুণদের পরিবেশভিত্তিক উদ্ভাবনকে বাস্তব নীতিগত ও মাঠপর্যায়ের উদ্যোগে রূপ দেওয়ার সুযোগ। প্রতিযোগিতায় পাওয়া স্বীকৃতিকে কাজে লাগিয়ে বিজয়ী প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে এগিয়ে যেতে চায় সংগঠনটি।
৮১টি প্রস্তাবের মধ্যে একটি প্রকল্প প্রথম হয়েছে। এখন সেই প্রকল্পের সামনে আরও বড় পরীক্ষা—ধারণাটিকে বাস্তব পরিবর্তনে রূপ দেওয়া।
এমএস/